মুক্তমঞ্চে বসে আছি
-পারভেজ
মুক্তমঞ্চে বসে আছি,
সামনে বাদামওয়ালা বসে আছে,
পাখিগুলো উড়ে যেতেই হাওয়া বইল,
এখানে যে কত শত স্মৃতি বাঁধা রইল!
একে একে সব রকমের মানুষ
আসছে, যেন উড়াবে তাদের ফানুস!
অটো-গাড়িতে গান বাজে,
এক ধারে বাদাম অন্য ধারে কটকটি সাজে,
মানুষ আসতে লাগবে হরহর,
তারিখ আজ আঠারো ডিসেম্বর।
এখান থেকে কিছুদূর দক্ষিণে,
দেখা হবে তোমার পদ্মা নদীর সনে।
ছোট ছেলেমেয়েরা নিজের মতো খেলছে,
স্বাধীনতা এখন তাদের রক্তে, টগবগ করছে।
মুক্তমঞ্চে বসে আছি... কিন্তু,
নিজেকে কেমন যেন লাগছে জন্তু!
নিজের নজরের উপর নাই নিয়ন্ত্রণ
নিজের মনের উপর নাই নিয়ন্ত্রণ,
নিয়ন্ত্রণ নাই নিজের পায়ের উপর,
কোথায় কোথায় করি যে সফর!
পুরো দেশ জুড়ে ভরে আছে এমনে,
উন্নতি হবে আশা দেখ কেমনে?
মানুষের গায়ের পোশাক কত বিচিত্র!
কত চরিত্র,কত অভিনয়, এতে রচিত!
স্বপ্ন দেখতে বাঁধা নাই, শখে বাঁধা নাই,
কিন্তু যখন দুখের সাথে উদরে ক্ষুধা পায়?
চুরি,করা ঝগড়া করা,গালাগালি আর,
এক পরিবারে অশান্তি, নরক জ্বলে বারবার!
তবে কেমন করে ঐ মুক্ত রক্ত টগবগ করে?
দুনিয়ার সমস্ত সুখ,আহ্লাদ তাদের মননে ভরে?
অল্পেই সুখী, অল্পেই তুষ্টি, এই তাদের মন্ত্র,
আর,কতক মানুষের প্রাণ খেয়েও ভরে না অন্ত্র,
টাকার ওপর লক্ষ কোটি টাকা হাওয়া,
তারপর আবার আশা,চাঁদে জমি পাওয়া!
বড়লোকেরা গরিবের চামড়া দিয়ে
বানিয়েছে চার চাকার গাড়ির টায়ার,
কত সময় , কত ইচ্ছে মনে নিয়ে,
এসেছে খুলেছে মুক্তমঞ্চের দুয়ার!
ডোরা কাটা দাগের মতো দাঁড়িয়ে,
নিজেদের ধাপ আর এক ধাপ বাড়িয়ে,
চিন্তাহীন মানুষেরা যাবে হারিয়ে!
কোটি টাকার মালিকেরা আমাদের প্রাণে,
সুতো বেঁধে উড়ায় আর মন্ত্র শুনায় কানে কানে!
আমরা উড়ার চেষ্টা করি, পাখা ঝাপটায়,
অবশেষে প্রাণ উড়ে যায় শেষ চেষ্টায়!
কথায় বলে "কিলাইয়া হাকাইয়া ডাকাতি
মারিয়া দেশেরই শান্তি মিলিল",
কিন্তু সেই ডাকাত যদি নিজেদের মধ্যেই হয়
তাহলে কেমনে তাড়াবে আর কেমনে মারবে!
এতে কেবল শত্রুর সংখ্যাটা বাড়বে।
কয়জন বীর, বীর বাঙালি বুক ফুলিয়ে দাঁড়াবে?
প্রাণ যাবে, যায় যাক তবু দেশের মুক্তি আনাবে?
প্রকৃত মুক্তি ,প্রকৃত স্বাধীনতা, আনবে কে?
ঘরে ঘরে উদরের পরাধীনতা ঘুচাবে কে?
0 Comments
Thank you for commenting! Your feedback means a lot. 😊