Sustainable development and education
ভূমিকা:
১৯৮৩ সালে UN একটি স্বাধীন সংস্থা Brundtland Commission গঠন করে যা World Commission on Environment and Development হিসেবে পরিচিত।
১৯৮৭ সালে "Our Common Future" প্রতিবেদনে "টেকসই উন্নয়ন" সংজ্ঞায়িত হয়েছিল এরূপে-
"ভবিষ্যত প্রজন্মের নিজস্ব চিহিদা পূরণের সম্ভাবনা বা সক্ষমতার সাথে
কোনো ধরনের আপোস না করে
বর্তমান প্রজন্মের চাহিদা পূরণ করাকে টেকসই উন্নয়ন বলে।"
Sustainable Development Goals (SDGs) ২০১৫ সালে UN-GA দ্বারা গঠিত হয়েছিল।২০৩০ সালের মধ্যে এটি অর্জনের লক্ষ্যে রয়েছে যা UN-GA রেজুলেশনে "এজেন্ডা ২০৩০" নামে পরিচিত। টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (SDGs) হলো ১৭ টি এবং এতে ১৬৯ টি ধারা রয়েছে।
টেকসই উন্নয়নের ত্রিমাত্রার (পরিবেশ, সামাজিক, অর্থনৈতিক) জন্য ভারসাম্যপূর্ণ ও সমন্বিত পদ্ধতি ব্যবহারে বর্তমান ও ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে তাদের চাহিদা মেটাতে ক্ষমতাবান ও সজ্জিত করার লক্ষ্য হলো ESD বা টেকসই উন্নয়নের জন্য শিক্ষা।
টেকসই উন্নয়ন ও শিক্ষা:
Sustainable Development বা টেকসই উন্নয়নের কিছু বৈশিষ্ট্য লক্ষ্য করা যায় যেমন: জীববৈচিত্র্য,গ্রীণ হাউজ গ্যাস, জলবায়ু পরিবর্তন, সম্পদের টেকসই ব্যবহার ইত্যাদি। এগুলো সহ আন্ত: সংযুক্ত বৈশ্বিক চ্যালেঞ্জ মোকাবেলার জন্য সকল বয়সের শিক্ষার্থীদের জ্ঞান, দক্ষতা, মূল্যবোধ এবং সংস্থা প্রদান করা টেকসই শিক্ষার লক্ষ্য।
এটি শেখার জ্ঞানীয়, সামাজিক-মানসিক এবং আচরণগত মাত্রা বাড়ায় এবং শেখার বিষয়বস্তু ও ফলাফল আর শিক্ষাবিদ্যা ও শিক্ষার পরিবেশকে অন্তর্ভুক্ত করে।
এ সম্পর্কে The City of God থেকে Thomas Aquinas এর একটি উক্তি বলা যায়-
"The slogan of education, peace and development
is very pragmatic
as the paradigm
form the way to change suitable to human civilization."
টেকসই শিক্ষার সংজ্ঞা:
টেকসই শিক্ষাকে প্রায়শই টেকসই উন্নয়নের জন্য শিক্ষা (ESD) হিসেবে উল্লেখ করা হয়।
টেকসই শিক্ষা সম্পর্কে UNESCO ২০১৪ সালে সংজ্ঞায়িত করে এভাবে -
"টেকসই উন্নয়নের জন্য শিক্ষার জন্য যেভাবে শিক্ষা প্রায়শই চর্চা করা হয়
তাতে সুদূর প্রসারী পরিবর্তন প্রয়োজন। ESD মানে শিক্ষা ও শেখার ক্ষেত্রে
টেকসই উন্নয়নের মূল বিষয়গুলো অন্তর্ভুক্ত করা
যেমন: জলবায়ু পরিবর্তন,দুর্যোগ ঝুঁকি হ্রাস, জীববৈচিত্র্য, দারিদ্র্য হ্রাস, টেকসই ব্যবহার প্রভৃতি।"......
ইউরোপীয় ইউনিয়ন কাউন্সিল ২০১০ সালে সংজ্ঞায়িত করে-
"ESD টেকসই সমাজের অর্জনে অপরিহার্য ও আনুষ্ঠানিক শিক্ষা
ও প্রশিক্ষণের সকল স্তর , অনানুষ্ঠানিক ও আনুষ্ঠানিক শিক্ষার ক্ষেত্রে এটি কাম্য। "......
টেকসই উন্নয়ন শিক্ষা প্যানেল রিপোর্ট ১৯৯৮ সালে সংজ্ঞা দেয় এভাবে যে,
"ESD হলো আমাদের জীবনযাত্রার মান বজায় রাখা
এবং উন্নত করার জন্য প্রয়োজনীয় শিক্ষা এবং আগামী প্রজন্মের জীবনযাত্রার মান।"......
টেকসই উন্নয়নের জন্য শিক্ষা:
টেকসই উন্নয়নের জন্য শিক্ষা হলো ইউনেস্কোর শিক্ষা খাতের জরুরী এবং নাটকীয় চ্যালেঞ্জের প্রতিক্রিয়া। ২০৩০ শিক্ষা কার্যক্রমের জন্য UNESCO - এর ESD এর লক্ষ্য হলো ব্যক্তিগত ও সামাজিক পরিবর্তন আনা যা কোর্স পরিবর্তনের জন্য প্রয়োজনীয়।
ESD একটি আজীবন শেখার প্রক্রিয়া এবং মানসম্পন্ন শিক্ষার একটি অবিচ্ছেদ্য অংশ।
ESD এবং UNESCO :
ESD তে ৫টি প্রধান ক্ষেত্রকে কেন্দ্র করে ইউনেস্কোর কাজ। ইউনেস্কো বিশ্বব্যাপী ESD তে নেতৃত্ব ও সমর্থন করে ও নির্দেশিকা দেয়। SDG সূচক ৪.৭.১ এর অগ্রগতি নিরীক্ষণ করে যেন বৈশ্বিক নাগরিকত্ব শিক্ষা ও ESD জাতীয় শিক্ষানীতি,পাঠ্যক্রম,শিক্ষক শিক্ষা এবং ছাত্রদের মূল্যায়নে মূলধারায় যুক্ত হয়।
বিশ্বে মানব সৃষ্ট বর্জ্যের পরিমাণ বেড়ে গেছে। আর এ বর্জ্য কমাতে ইউনেস্কো "ট্র্যাশ হ্যাক" চালু করেছে।
টেকসই উন্নয়নে শিক্ষার ভূমিকা:
টেকসই উন্নয়নের জন্য শিক্ষা বা ESD ধারণাটি মূলত পরিবেশগত শিক্ষা থেকে বিকশিত যা মানুষের পরিবেশের যত্ন নেওয়ার জন্য জ্ঞান, দক্ষতা,মূল্যবোধ, দৃষ্টিভঙ্গি ও আচরণের চেষ্টা করেছে।
ন্যায়বিচার, দায়িত্ব,অন্বেষণ এবং সংলাপের অনুভূতির পাশাপাশি ESD- এর লক্ষ্য আমাদেরকে এমন আচরণ ও অনুশীলনের দিকে নিয়ে যায় যা আমাদের সকলের মৌলিক মানবিক চাহিদা থেকে বঞ্চিত না হয়ে পূর্ণ জীবনযাপনে সক্ষম করবে।
টেকসই উন্নয়ন ও শিক্ষার লক্ষ্য:
টেকসই উন্নয়নে প্রকৃত শিক্ষার বিকাশ আবশ্যক। শিক্ষার মূল উদ্দেশ্য হলো কল্যাণকর সমাজ গঠন। ESD হলো "দায়িত্বপূর্ণ ব্যবহার ও উৎপাদন" এর জন্য টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্য- ১২ এর একটি সূচকে পরিমাপের একটি উপাদান। SDG-12 এর ১১টি লক্ষ্য রয়েছে।
জলবায়ু পরিবর্তন শিক্ষা:
জলবায়ু পরিবর্তন শিক্ষা, ESD- এর প্রধান বিষয়গত ফোকাস কারণ এটি মানুষকে জলবায়ু সংকটের প্রভাবগুলি বুঝতে ও মোকাবেলা করতে সাহায্য করে।
এর পরিবর্তনের এজেন্ট হিসেবে কাজ করার প্রয়োজনীয় জ্ঞান, দক্ষতা, মূল্যবোধ ও দৃষ্টিভঙ্গি দিয়ে তাদের ক্ষমতায়ন করে।
ESD তে শিক্ষাগত পদ্ধতি:
ESD পাঠ্যক্রমে স্থায়িত্ব দেওয়া যেতে পারে।সক্রিয় অংশগ্রহণমূলক এবং অভিজ্ঞতামূলক শিক্ষা পদ্ধতির দিকে পরিবর্তন প্রয়োজন।যেমন:
১. সমালোচনামূলক প্রতিফলন,
২. পদ্ধতিগত চিন্তাভাবনা ও বিশ্লেষণ,
৩. অংশগ্রহণমূলক শিক্ষা,
৪. ভবিষ্যৎ পরিস্থিতির জন্য সৃজনশীলভাবে চিন্তা করি,
৫. সহযোগিতামূলক শিক্ষা ।
উপসংহার:
Education for Sustainable Development (ESD) বা টেকসই উন্নয়নের জন্য শিক্ষা মানব উন্নয়নে, শিক্ষায়, শান্তি আনয়নে এবং টেকসই উন্নয়নের লক্ষ্যগুলো বাস্তবায়নে মুখ্য ভূমিকা পালন করে।
পরিবেশ, অর্থনৈতিক, সামাজিক ক্ষেত্রে টেকসই উন্নয়নে নতুন প্রজন্মের সংযুক্ততা ESD নিশ্চিত করে। ESD এর মাধ্যমে ব্যক্তি টেকসই উন্নয়ন সম্পর্কে ধারণা লাভ করতে পারবে ও দৈনন্দিন জীবনে তা প্রয়োগ করতে পারবে।
সর্বশেষে এ.পি.জে. আবুল কালাম আজাদের একটি উক্তি বলা যায় যে,
"The aspect of education is enriched with reason
that aim at having peace which is the precondition of any kind of development
both in concrete and abstract sphere of life."
.jpeg)
0 Comments
Thank you for commenting! Your feedback means a lot. 😊