কবিতা: স্বপ্নবৎ

স্বপ্নবৎ

         - পারভেজ


রেলগাড়ি চিতকার করে ছুটে চলেছিল আর

আশেপাশে তার ঝঙ্কার এনেছিল রাতে হুঙ্কার

সাথে সাথে এসেছিল সে আমার একা মনে বসে

মাতাল এ রাত্রি নেশায় এ যাত্রি সব যায় মিশে।


ঝিঁঝিঁ পোকাদের ডাক এনেছিল শ্বাসরুদ্ধ রাত

জোনাকিদের আলোয় মিলেছিল ঘাত প্রতিঘাত

রূপালী চাঁদ দেখেছিল অপরূপ খেয়ালি ছল

মায়া ভরা চতুরী হাওয়ায় মুক্ত প্রাণের দল।


বিশ্বাস করে ধরেছিলাম চন্দ্র থেকে আসা আলো

তারাগুলো আলো দিলো আরো রাতের আঁধারে চলো

উঁকি দিবে দিবে ঊষা বর্ষা হয়ে ঝরে গেল সব

নব নব ঘুমে মধ্যরাত্রি ছোঁয়া হারিয়ে শৈশব।


কতকিছু সব মিছে মিছে সেজেছিল একদিন

জ্বলেছিল শিখা আঁখি দুই ভরা জাঁকালো সেদিন

পাগলাটে অন্তর গরম থেকে মন্থর লালচে

এখন সব ডুবে গেছে শুধু রয়ে গেছে কালচে।


শত শত ভাবনা আসে যায় ভেসে যায় কল্পনা

মনে থাকে না মনে ধরে না কিছুই ভালোলাগে না

যত যায় দিন তত আসে রাত সময় থামে না

এখন সময় চলে সময় থেকে ক্লান্ত চলে না।


শূন্য থেকে মহাশূন্য দেখেছিলাম রঙের খেলা

চোখের মাধুরী মনের মোহিনী যেন কল্প মেলা

হিয়া আমার থমকে ছিল যেন সর্বনাশী গল্প

হিম হিম যামিনী আমাকে ডেকেছিল অল্প অল্প।


হারানো সব পেয়েছিলাম জল গড়ে গড়ে ঝর্ণা

চেয়েছিলাম না পাওয়া যা তা পেয়ে গোধূলি স্বর্ণা

হঠাৎ কেন বর্ষা হঠাৎ কেন বজ্র ছুটে চলে

আলো থেকে আঁধারে বারি তলে পাথারে দুলে দুলে।


শেষটা আছে জানা অপেক্ষা মেলে ডানা প্রতিবার

প্রতিক্ষণে মনে জাগে আকাঙ্ক্ষা আশার পারাবার

দেখা যায় যতদূর চোখ যায় ইচ্ছে পালাবার

জেগে জেগে রই ঘুম নেশা ছুঁই শূণ্য জলাধার।


রঙিন বুদবুদ করে উড়ে যাওয়া সব চিন্তা

জলভরা কান্নাকথা সাদা শার্টে বলা কথা মিথ্যা

সত্য থাকে লুকিয়ে মিথ্যাকে বাঁচিয়ে স্বপ্ন বরণ

স্বপ্ন মত চোখে চোখ রেখে লাল গোলাপ হরণ। 

Post a Comment

0 Comments