যদু ভাই বেশ ভালোই আছেন -০১



যদু ভাই বেশ ভালোই আছেন -০১


যদু ভাই ভাড়া বাড়িতে থাকেন। তার বাড়িওয়ালা একজন উকিল। তবে বাড়ি দেখাশোনা করে উকিলের মেয়ে কারণ তার জামাই চাকরি নিয়ে ব্যস্ত থাকে। বাড়িওয়ালী ২য় তলায় থাকে, যদু ভাই থাকেন নিচ তলায়; যদু ভাইয়ের পাশে এক ঘর নিয়ে থাকে নব্য দম্পতি। যদু ভাইয়ের আগে থেকেই আছে তারা। তাদের বাড়িওয়ালীর সাথে বেশ বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক, যদু ভাইয়ের বাসার যে খবর তাদের কানে যায়, তারা বাড়িওয়ালীর সাথে শেয়ার করে। শেয়ারে কেয়ার বাড়ে! হয়তো হয়েছেও তাই!!

বাড়িওয়ালী কিন্তু বেশ ভালোই। মুসলিম মাইন্ডের মহিলা। বোরখা, হিজাব পরে থাকে। যদু ভাই পানির জন্য অতিরিক্ত টাকা দেন। তবে ইদানিং শীতের মধ্যে যদু ভাইয়ের বাড়িওয়ালীরা কম পানি খাচ্ছে, তাই একদিন খাওয়ার পানি দিলে পরের দিন আর পানি না দিলেও চলে। দৈনন্দিন কাজে ব্যবহারের পানি আসে মাটির নিচে থেকে, বাড়িওয়ালী সুইচ দিয়ে পানি তুলে রাখে, তবে সুইচ অফ করতে ভুলে যায়; আর ভুলবেই বা না কেন! একটা-দুইটা তো কাজ না! যদু ভাই ভালো মানুষ, বাড়িওয়ালীকে খবর দিলে সুইচ অফ হয়।

বাড়িওয়ালীর কয়েকটা ভালো অভ্যাস আছে। যদু ভাই খেয়াল করেছেন যে, বাড়িওয়ালী যখন বাড়ি থেকে বের হয় তখন একটা হৈ হৈ কাণ্ড ঘটে, সারা বাড়ি জানান দিয়ে বাড়িওয়ালী তার বাড়ি ত্যাগ করে। আবার যখন বাড়িতে ফিরে আসে মেইন গেট থেকে হাস্য লহরী ঘরের কোণায় কোণায় শোনা যায়। এ থেকে যদু ভাই টের পেয়ে থাকেন যে বাড়িওয়ালী কখন বাসায় আছেন। আবার এছাড়াও আরেকভাবে যদু ভাই বুঝতে পারেন যে বাড়িওয়ালী আছেন কিনা। সামনের বাসাটা হচ্ছে বাড়িওয়ালীর খালার। খালাও বেশ ধার্মিক। বাড়িওয়ালীর সাথে খালার বেলকনিতে দৈনিক কথা হয়।

আজকের-ই কথা - খালা বলছে যে, খালা অমুকের মতো এতো বেশি নামাজ পড়ে না, তাহাজ্জুদ পড়ে না, হজ্জ করেনি তবুও অমুকের মতো এরকম নোংরা কাজ করে না। খালা ২য় তলার বেলকনিতে দাঁড়িয়ে বলছে যে, বুঝলে! অমুকে এতো নামাজ পড়ে অথচ অভিশাপ দিয়ে বেড়ায়। ছি! ছি! ছি! লজ্জা‌ শরম নাই। এর তো জান্নাত-জাহান্নাম পরের কথা, কবরের আযাব থেকে রেহাই পাবে কি করে! জাহান্নামের আগুনে ঝুলবে। ওর অভিশাপ ওর কাছেই যেন ঘুরে লাগে। আল্লাহ বলছে তো! যে অভিশাপ দেয় তাকেই ঐ অভিশাপ লাগে।

যদু ভাইয়ের বাড়িওয়ালীর সাথে বেলকনিতে খালার এভাবে কখনো ধর্ম নিয়ে সমালোচনা কিংবা ভাড়াটিয়াদের নিয়ম-কানুন, আগের ভাড়াটিয়ারা কেমন বাজে ছিল এরকম শিক্ষনীয় গল্প অথবা কখনো কখনো আত্মীয়দের মধ্যে কে কেমন কোন অবস্থায় আছে এরকম স্মৃতিচারণ মূলক কথাবার্তা প্রায়শই হয়ে থাকে। যদু ভাইয়ের বাড়িওয়ালী ভালো মনের মানুষ। রাতে মেইন গেট তালা দেওয়ার সময় জিজ্ঞেস করে যে যদু ভাই বাসায় আসছে কিনা। কখনো কখনো বন্ধুদের সাথে বসে একটু দেরী হয় তাই যদু ভাই এখন নিজ দায়িত্বে মেইন গেট তালা দেন।

যদু ভাইয়ের বাড়িওয়ালী খুব সহজ সরল একজন মানুষ। হে হে! একবার হয়েছে কি! - বাড়ি তালা দিয়ে কোথাও চলে গেছে। এর মধ্যে তার জামাই বাসায় আসছে। জামাই ডেকে ডেকে হয়রান। কল দিলে কল ধরে না। খালা বলছে, কল দাও। যদু ভাই বলছে গেটের চাবি লাগবে?! জামাই রাগ করে কোথায় যেন চলে গেছে। যদু ভাইয়ের দিন চলে যায় এভাবে।

যদু ভাইয়ের ঘুম আসতে দেরি হয়, যখনই চোখ লেগে যায়, যদু ভাইয়ের মাথার উপর থেকে বিভিন্ন ধরনের আওয়াজ আসে যেমন: ফ্লোরে বাড়ি মারা, লাথি মারা, জিনিস ফেলে দেওয়া, দৌড়ানোর, ছোটাছুটির ইত্যাদি। এরপর সামনের বাড়ির নিচ তলা থেকে টিভির শব্দ আসে, গানের আওয়াজ আসে উচ্চহারে; এসব শেষ হলে যদু ভাই যেই ঘুমাবে সেই হোয়াটসঅ্যাপের রিংটোন বেজে ওঠে সামনের বাড়ির নিচতলায়।এভাবেই আজকাল যদু ভাইয়ের দিনকাল কাটছে আরকি।

যদু ভাই বেশ ভালোই আছেন। যদু ভাইয়ের আয়ের চেয়ে ব্যয় বেড়ে গেছে অনেক। টাকা ধার করে চলছেন। তবে খাওয়া-দাওয়া, পোশাক-পরিচ্ছদে কমতি নাই। যদু ভাইয়ের বাড়িওয়ালা, তার বন্ধু বান্ধব সবাই বলে যে যদু ভাই বেশ ভালোই আছে। যদু ভাই-ও তাই মনে করেন।

সবচেয়ে বড় কথা হলো এবার যদু ভাইয়ের আঙুলে দাগ পড়েছে। যদু ভাই খুশিতে আত্মহারা। বাসায় খাওয়া দাওয়ার জমজমাট আয়োজন। আমিও ছিলাম সেখানে। আর যাই হোক, যদু ভাই ডাকছে, না গেলেই নয়। যদু ভাই বলছে, আমাদের জমির অনেক উন্নতি হয়েছে। আমিও যদু ভাইয়ের কথায় সায় দিয়ে বললাম, আসলেই যদু ভাই! আমাদের জমিদারির ভালোই উন্নতি হয়েছে, দেখেন না! এবার সত্যি সত্যিই আপনার আঙুলে দাগ! যদু ভাই খুশিতে গদগদ হয়ে আমার থালে আরো দুই পিস মাংস তুলে দিলেন। সবাই খুশি, যদু ভাইও খুশি আর আমি তো এমনেও খুশি।

Post a Comment

0 Comments